Sunday, December 21, 2014

সামাজিক যোগাযোগের সাইটে ছবি আপলোড কি জায়েজ



প্রশ্ন --> সামাজিক যোগাযোগের সাইটে ছবি আপলোড কি জায়েজ ? যদি হিজাবী ছবি হয় তবে ?
উত্তর :  যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর। দরুদ ও সালাম আল্লাহর রাসূল (সা) এর উপর। পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
প্রথমে একটি প্রশ্ন যে নিজের ছবি profile picture হিসেবে ব্যবহার করা যাবে কিনা ? ( নারী/পুরুষ উভয়ের জন্য)
উত্তর হল , profile picture হিসেবে নিজের ছবি ব্যবহার জায়েজ নেই ।
( ফতোয়ায়ে রহিমিয়া , ভলি ১০ পৃ ১৪৬ , ইশা'আত ; ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া , ভলি ১৯ পৃ ৪৭০ , ফারুকিয়া )
তবে এমনি যেকোন সাধারণ ছবি ব্যবহার করা যাবে । আর ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগের জন্য ছবি মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয় ।
আর সাধারণ ছবি পোস্ট করার ব্যাপারে আলেমদের মতামত হল ছবি পোস্ট করা অবশ্যই বর্জনীয় ।
১. অনেক ক্ষেত্রে ছবি দ্বারা কোন কাজে গর্ব - অহংকার প্রকাশ পায় ।
২. গায়ের মাহরামদের নিকট সৌন্দর্য/ আভিজাত্য ফুটে ওঠে । যা নানা বিদ ফিতনার দিকে নিয়ে যায় ।
৩. অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় একজনের ভাল ছবি দুষ্ট লোকের হাত দ্বারা ফটোশপড হয়ে কোন খারাপ ছবিতে পরিণত হয় । যা চরম পরিণতির দিকে ধেয়ে নিতে পারে ।
আর অপ্রয়োজনে ছবির তোলার পক্ষেই আলেমদের মত নেই । এই ছবির উপরেও আঁকা ছবির সমস্ত নিয়ম আরোপিত হবে । আলেমরা কেবল আইডি কার্ড, পাসপোর্ট , সিকিউরিটি ইত্যাদি অতি জরুরি কাজের জন্য ছবির সীমিত ব্যবহার অনুমতি দেন ।
আর যদি কোন বোন নিকাব পরে ছবি তুলে তা পোস্ট করেন তবে সেই ছবি দেওয়া না দেওয়ায় ত কোন পার্থক্য নাই । আর পুরো শরীর ঢেকে ছুবি মুখ খোলা ছবিও অনুমোদন যোগ্য নয় । কারণ একজন নারীর সৌন্দর্য্যের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে তার মুখমণ্ডল ।
এবং Clark, Schofield Lynn লিখিত The Parent App: Understanding Families in the Digital Age. (Oxford University Press, 2013), বইয়ের 108-109 পৃষ্ঠায় একটি ঘটনা পাওয়া যায় । যেখানে এক ১৭ বছর বয়সী হিজাবী তরুণী ও তার বোনের ছবি তার পেজ হতে নিয়ে নগ্নদেহে সংযোজন করে তা দিয়ে তাদের অপমানিত করা হয়েছে ।
সুতরাং সার্বিক দিক বিবেচনা করে আলেমদের মতামত হল ছবি পোস্ট করার বিপক্ষে ।
এবং এটাই তাকওয়ার মাপকাঠিতে অধিক উন্নীত

ইসলামে নারীদের খতনার অনুমতি নেই



আজকাল ‘নারী খৎনা’ নামক একটা টার্ম নিয়ে হিন্দুরা খুব লাফালাফি করে, আবার অনেকে আইএস’র উদাহরণ নিয়ে আসে। আসলে নারী খৎনা নিয়ে ইসলামে কি হুকুম তা জানার দরকার আছে।
নারী খতনা হানাফি মাহযাব মতে জায়িজ নেই (বিশ্বের অধিকাংশ মুসলমান হানাফি মাহযাব অনুসারী)। ফতোয়ায়ে  শামী  কিতাবে  বলা  হয়েছে,  কোরআন-হাদীসে  খতনাহ  সম্পর্কিত  যত  কথা  আছে  তাহা  কেবল  পুরুষদের  জন্য  প্রযোজ্য ।  তবে শাফেয়ী মাহযাব মতে নারী খৎনা করা যায়, তবে সেটা সবার জন্য নয়, মাজুর বা অসুস্থ নারীদের জন্য। এখানে মনে রাখতে হবে, অনেক মহিলা সন্তান হওয়ার সময় সিজার অপরেশন করে, এতে ঐ মহিলার অনেক কষ্ট হয়, কিন্তু মাজুরতা বা অসুস্থতার জন্য তাকে ঐ কাজটি বাধ্যই হয়ে করতে হয়। তেমনি ঐ সময়, ঐ এলাকার অনেক মহিলারা বিশেষ রোগে ভুগতো, যার কারণে ঐ সময় নারী খৎনার বিশেষ প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এবং প্রয়োজন অনুসারে মাজুর মহিলাদের জন্য এ কাজটি অনুমোদন করা হয়। অবশ্য, শাফেয়ী মাহযাবের নারী খৎনার অনুমোদন এটাই প্রমাণ করে ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান। কারণ নারীদের ঐ বিশেষ শারীরিক সমস্যা সমাধান একমাত্র ইসলাম-ই দিতে পেরেছিলো, যা অন্য ধর্ম দিতে পারেনি।
পাশাপাশি হিন্দুদের মনে রাখা উচিত, মুসলমানদের মধ্যে পুরুষদের খৎনা বাধ্যতামূলক, ইসলাম যে পরিপূর্ণ জীবন বিধান এটাই তার প্রমাণ। এবং বর্তমান মেডিকেল সাইন্সও পুরুষ খৎনার গুরুত্ব স্বীকার করেছে। অথচ হিন্দু ধর্মে কিন্তু পুরুষ খৎনার কথা নেই। যার কারণে অনেক হিন্দুকেই দেখেছি, রোগাক্রান্ত হয়ে ডাক্তারের কাছে যায়, আর ডাক্তার তাদের মুসলমানি করতে বলেন। তারাও হাসপাতাল কিংবা হাযামের কাছে মুসলমানি সেরে আসেন। তখন তো হিন্দুরা পুরুষ খৎনা নিয়ে চিৎকার করে না, কেন তাদের পুরুষদের মুসলমানি করে দেয়া হলো।
আমার মনে হয়, হিন্দুদের উচিত তার পুরুষদের মুসলমানি তথা খৎনা বাধ্যতামূলক করা। কারণ তারা দীর্ঘদিন যাবত কথিত ‘লাভ জিহাদ’ বন্ধ করতে চিৎকার করে যাচ্ছে, অথচ উক্ত লাভ জিহাদের পেছনে মূল রহস্য কিন্তু মুসলিম পুরুষদের খৎনা এবং হিন্দু পুরুষদের না-খৎনা করা।
তাই সকল হিন্দুদের প্রতি আহবান, “লাভ জিহাদ বিরোধী ক্যাম্পেইন বাদ দিয়ে, সবাই মিলে মুসলমানি করে ফেলো, দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে”।
[অনেকেই প্রশ্ন করেছেন নারী খৎনা কি ??
উত্তর: নারী খৎনা হচ্ছে এক প্রকার অপরেশন। সকল নারীদের দরকার হয় না, কিছু কিছু মহিলা এক প্রকার সমস্যায় ভুগে থাকেন, তাদের জন্য দরকার হয়। বিশেষ করে আফ্রিকা বা মিশরে এ সমস্যাটা বেশি দেখা যায়। মহিলাদের লজ্জাস্থানের কয়েক ধাপে পর্দা বা গোশত থাকে। অনেক মহিলার অস্বাভাবিকভাবে গোশত বৃদ্ধি পেয়ে এক ধাপের গোশত আরেক ধাপের উপর উঠে যায়, এক্ষেত্রে ঐ মহিলা শারীরিক মিলনে অক্ষম হয়ে পড়ে। এটা এক ধরনের রোগও বলতে পারেন, যেমন অনেকের নাকের গোশত বেড়ে যায়, তখন গোশত কাটতে হয়, ঠিক তেমন। এ অসুখ হলে ছোট এক অস্ত্রপোচার করে ছিদ্র করে দিতে হয়, যেন ঐ মহিলা স্বাভাবিক জীবন ধারণে সক্ষম হয়। আমাদের এলাকার মহিলাদের এ অসুখ হয় না দেখে আমরা বিষয় জানি না, তবে আফ্রিকায় এটা খুব কমন একটা রোগ। তবে ইসলামী আইন হচ্ছে, যার এ রোগ নেই তার অযথাই গোশত কাটা যাবে না। এ বিষয়টাই প্রমাণ করে, ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন বিধান, তাই মহিলাদের এ ধরনের রোগের সমাধান দিয়েছে। কারণ নারী খৎনা না করলে তো ঐ মহিলা স্বাভাবিক জীবনযাপনই করতে পারবে না। কিন্তু কাফিররা এটা নিয়ে মূর্খের মত অপপ্রচার করে থাকে। ]
(সংগৃহীত)